পৃষ্ঠাসমূহ

Showing posts with label শান্তি. Show all posts
Showing posts with label শান্তি. Show all posts

Monday, April 22, 2013

আজ থেকে শুরু হয়েছে আবার হরতাল। আর হরতাল মানেই সহিংসতার আশংকা।



আজ১৮ দলেরডাকা টানা৩৬ ঘন্টারহরতাল শুরুহয়েছে। হরতালেরপ্রধান ইস্যুদলীয় নেতাদেরমুক্তি। হরতালবাংলাদেশের একটি সাংবিধানিক আন্দোলনের মাধ্যম।জাতীয় ইস্যুতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় হরতাল আহবান করা যেতে পারে। আর এ হরতাল প্রতিহত করার সরকারের যে প্রচেষ্ট তা আসলে কি ভাল হচ্ছে? আমার মনে হয় মোটেও ভাল হচ্ছে না। কারণ এতে নৈরাজ্য, সহিংসতার আশংকা বৃদ্ধি হয়। একদল থাকে হরতাল সফল করার প্রচেষ্টায় আরেক দল থাকে তা প্রতিরোধ করায়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সৃষ্টি হয় ক্রোধ এর, হিংসা এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া তো আছেই। এক পর্যায়ে তা সহিংসতায় পরিণত হয়। আর এ সহিংসতার দরুণ ককোন নেতা কর্মী আহত কিংবা নিহত হলে বিশেষ করে হরতালের সমর্থকদের মধ্য থেকে কেউ হলে ব্যাস্। পরের দিন আবার হরতাল। আর বর্তমানের হরতালে সবসময় বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের উপর থাকে পুলিশি নজর এবং বাঁধা। মিছিল করতে দেওয়া হয়না, সমাবেশ করতে গেলে বাঁধা প্রদান করা ইত্যাদি দেখলে মনে হয় এগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত। হরতাল সমর্থক কিংবা বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা জোর পূর্বক বাঁধা অতিক্রম করতে গেলেই শুরু হয় ধর-পাকড়। তারপর আবার শুরু হয় সেই ধর-পাকড়ে পাকড়াও হওয়া নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবীতে হরতাল কিংবা আন্দোলন। এতে করে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে এমন প্রভাব পড়ছে যে মনেই হয়না কখনো এ দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা আজীবন মেয়াদ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন? না, তাদেরও কখনো না কখনো আবার বিরোধী দল হতে হবে। তাহরে তখন তাদের অবস্থা কি হবে একবার কি ভেবে দেখেছেন এই ক্ষমতাসীন দল। হাতে ক্ষমতা আসলেই মানুষ এভাবে ভোলানাথ হয়ে যাওয়া ঠিক না। এতে নিজেরই ক্ষতি। এদেশ স্বাধীন হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এদেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা অর্জিত হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। তারমানে বুঝতে হবে এদেশের জনগণের ঘাড়ের উপর জোর-জবরদস্তি জরগণ মেনে নিতে পারে না। এরা যেকোন মুহুর্তে আবারো সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে জানে। সুতরাং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার আহবান, আপনারা সংঘাতের রাজনীতি মন থেকে ধূয়ে মুছে অহিংস রাজনীতির প্রতি জোর দিন। এদেশের সহজ সরল জনগণকে উপহার দিন সুন্দর একটি দেশ। আমরা সুন্দরভাবে, শান্তভাবে এবং নিরাপদে বাঁচতে চায়। মুক্তমনে, স্বাধীনচিত্তে খোলা আকাশের নিচে ঘুরতে চায়। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ যেন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে আমরা সেরকম বাংলাদেশ চায়।

Sunday, April 21, 2013

আমাদের দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত... (আস্তিক এবং নাস্তিক)

(আস্তিক)
(নাস্তিক)

আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ। বহু প্রাণের বিনিময়ে, বহু ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই দেশ। প্রতিজ্ঞা ছিল সোনার বাংলায় রূপান্তর করার। সোনার বাংলা থেকে যুগের পরিবর্তনের কারণে সেটি এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সোনার বাংলার আর দরকার নেই। কারণ যুগ পাল্টেছে। আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে তুলে দিয়েছেন। সে অনুযায় বর্তমানে বিরোধী দলের প্রধান আন্দোলন হওয়া উচিত ছিল তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু। কিন্তু না, তা আর হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবে। এই বিচার করতে গিয়ে এবং রায় নিয়ে সৃষ্ট মত-বিরোধ থেকে রাজনৈতিক ধারা সম্পূর্ণ অন্যদিকে মোড় নেয়। কাদের মোল্লার রায়কে নিয়ে শাহবাগে তৈরী হয় গণজাগরন মঞ্চ। আর এই গনজারণ মঞ্চই সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট পাল্টে দেয়। ইসলামী দলগুলোর টনক নড়ে। এই গণজাগরন মঞ্চ হওয়ার আগে কিন্তু বাংলাদেশে আস্তিক বা নাস্তিকের কোন আলোচনা কিংবা সমালোচনা কোনটাই ছিলনা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে। হঠাৎ করে দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। বর্তমান ইসলামী দলগুলোর মতানুসারে যারা ইসলামী দলের অনুসারী তারা নাস্তিক আর যারা বিশেষ করে আওয়ামীলীগ কিংবা বাম দল সমর্থক তারা নাস্তিক। আবার দেশের ইসলামীদলগুলোর মধ্যেও আছে মত-বিরোধ। একে অপরকে নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করছেন। আর ব্লগার তো আছেই। প্রিয় পাঠকগণ আপনি যদি ব্লগার হয়ে থাকেন তাহলে আপনি নাস্তিক। তাদের ভাষ্যমতে আমিও একজন নাস্তিক। আসলে ইসলামী দলগুলোর কর্মী পর্যায়ে অনেকেই আছেন, শুধু অনেকে না প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মীই কিন্তা জানে না ব্লগার কি এবং ব্লগ ই বা কি। আমি একজন মুসলিম হিসেবে এইটুকু বলতে পারি যে ইসলামে কোনকিছু না জেনে কারো সম্পর্কে কোনকিছু বলা ঠিক না। নিজ চোখে দেখে বা নিজের কানে শুনলে তখন সেটার সমালোচনা করা যায়। আবার ইসলাম এও বলে যে তোমরা জীবিত কাউকে কাফের বলো না, কেননা ঐ ব্যক্তি মৃত্যুর আগ মুহুর্তেও হয়তো ইমান আনতে পারে। একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন কে আস্তিক বা কে নাস্তিক। এমন অনেক মানুষ পৃথিবীতে আছে যারা সারাজীবন এমন সব অপকর্মে লিপ্ত থাকে যে তাদের দেখলেই ঘৃণা লাগে, কিন্তু মৃত্যুর মুহুর্তে দেখা যায় এ রকম অনেকেরই কালিমা নসীব হয়। পরিশেষে এইটুকু বলব, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্মে হিংসা, বিদ্বেষ এর স্থান নেই। ইসলাম বলে তোমাকে যদি কেউ একটা থাপ্পড় দেয় এবং তোমার সেই থাপ্পড়ের জবাব দেওয়ার সাহস, শক্তি থাকার পরও যদি তুমি তাকে ক্ষমা করো তাহলে তুমিই প্রকৃত ইমানদার। আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে হেদায়াত দান করুন।